আকাশের গল্প!

বিকাল পাঁচটা বেজে পনের মিনিট। বৃষ্টির দিন তাই রিক্সা পাওয়া দায় বোঝেই কুচাই থেকে আকাশ টাউন বাসেই উঠে পড়ল। প্রতিদিনের মতন আজকেও সে বন্দর থেকে লকাল সিএনজিতে আম্বরখানা নামবে আজকে ব্যতিক্রম শুধু জিন্দাবাজার কেএফসি-তে একবার দাড়াতে হবে। সেখানে পাঁচ টাকা দিয়ে সে যথারীতি নেমে পড়ে। বৃষ্টির দিন বলে আজকে কেএফসি-তে খদ্দের অনেক বেশি। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই উঠতি বয়েসি বড় লোকের ছেলেমেয়ে। আকাশ ভিতরে ঢুকে খাবার ম্যানুয়েলটা পড়ে দেখলো আর আলতো চোখে ম্যানেজোরের দিকে থাকিয়ে কি যেন বোঝতে চাইলো। সময় বোঝে দুইটা টোঙা দার চেয়ে নিল সে, পরিপাটি করে সাজা তরুণ ম্যানেজারের কাছ থেকে। ম্যানেজার তার এই আবদারে কিছুটা অবাক হলেও অসঙ্গতি প্রকাশ করলেন না। আর আকাশ মনের সুখে ঠোঙা দুইটা হস্তগত করে দোকান থেকে বেড় হয়েই ভাগ্যক্রমে হাতের কাছেই একটি রিক্সা পেয়ে যায়। সাধারণত অফিস ছুটির সময়ে রিক্সা পাওয়াটা দুরুহু। তাই এতকিছু না ভেবে রিক্সাকে যাবার জায়গা বলে যেতে রওনা হয়। রাস্তার পাশে TFC-তে দাড়িয়ে দুইটা চিকেন উইংস অর্ডার দিয়ে একটি একশ টাকার নোট দড়িয়ে দেয় দোকানদার পিচ্ছি ছেলেটার হাতে। মনে মনে ভাবতে থাকে শিশু শ্রমের আইন আসলে পাঠ্যপুস্তকে আর বাস্তবে সেটা চোখের সামনে ঘটে যাওয়া অহরহ ঘটনার মতনই সাধারণ ব্যাপার। আমরা এসব দেখেও চোপ, আসলে আমাদেরকে চোপ করে থাকতে হয়। ছোটকু দোকানদার দুটি সসের প্যাকেট সাথে দিতে চাইলে আকাশ বাধা দিয়ে বললো, তোমাদের সস অনেক মজার হলেও পেকেট-টা অনেক সস্তা। বাজার থেকে প্রাণের সস কিনে নিব আজকে ঘরের জন্য।

কয়েকদিন আগে সে ম্যাম সাহেবাকে নিয়ে ঘুড়তে বের হয়েছে। সেদিন ম্যাম সাহেবা রাস্তার পাশে মানুষের খাওয়া দেখে প্রায় বমি করবে অবস্থা । ঘরে এসে প্রায় তাচ্ছিল্যেই বলল তারা কিভাবে এমনটি দাড়িয়ে খায় দেখছ? ফকিরও তাদের কাছে ভিক্ষা খোজতে যেতে দ্বিধায় পড়ে যায়। আকাশ তখন মনে মনে ভাবছিল তাইতো, খাবারগুলা পার্সেল করে নিলেইত হয়। কিন্তু সেটা সে মনেই রাখল স্ত্রী-কে আর বলল না।

আহা! যদি সে জানত প্রতিবার আকাশ তাকে কিসের উইংস খাওয়াচ্ছে। আসলে সে ব্যাপারটা পরীক্ষা করে দেখেছে। রাস্তার পাশের এইসব খাবার মোটামোটি নামিদামি রেস্তোরা থেকেও অনেক স্বাস্থ্যসম্মত! কারণ এগুলা চোখের সামনেই রন্ধন করা হচ্ছে। সে মনে মনে গান গাইতে থাকে- চোখের দেখা মনের দেখা নয় রে বন্ধু, যদি চোখের দেখাই মনের দেখা হয় তাইলে ক্যান এত সংশয়! মনের দেখাই সকল দেখা নয় রে বন্ধু, যদি সমস্তই দেখতে হয়, ওস্তাদে কয় তুমি চোখ বন্ধ করে দেখ- আমানতে জামানত হইলো তাহার আলামত।

First PubLished

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s